অটো ফোকাস ও অটোফোকাসএরিয়া মোড : পর্ব-১

ডাঃ মানস চক্রবর্তী

ইএফআইপি, ইএফআইএপি

ফটোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ছবি শার্প হওয়া আর একটি শার্প ইমেজ পেতে গেলে, আপনাকে জানতেই হবে কোন ফোকাস মোড আপনার ছবির প্রয়োজনের জন্য সবচেয়ে ভাল রেজাল্ট দেবে। এই   নিউজলেটারের অক্টোবর ২০২১ সংখ্যায়, আমি ফোকাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আগ্রহী পাঠকরা বর্তমান আলোচনাকে আরও ভাল করে বোঝার জন্য সেই লেখাটিকে আর একবার পড়ে নিতে পারেন। এটা খুবই সত্যি যে ম্যানুয়াল এবং অটোফোকাসের মধ্যে, ম্যানুয়াল ফোকাস কিন্তু প্রায় সবসময়ই সেরা রেজাল্ট দেয় কিন্তু স্পোর্টস ফটোগ্রাফি, বার্ডিং, ওয়াইল্ড লাইফ ইত্যাদির মতো ফাস্ট মুভিং সাবজেক্টের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল ফোকাসিং ফটোগ্রাফারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ।  এটাও মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি ক্লিকের জন্য নিখুঁত ম্যানুয়াল ফোকাস মোটেই সহজ কাজ নয়। নির্ভুল ম্যানুয়াল ফোকাসিংয়ের ঝামেলা কমাতে, আধুনিক প্রযুক্তি প্রায় নির্ভুল অটোফোকাসিং সিস্টেম চালু করেছে।

ছবি ১


ছবি ২

বেশিরভাগ আধুনিক ডিজিটাল ক্যামেরা, ডিএসএলআর বা মিররলেস যাই হোক না কেন, এখন অনেক উন্নত অটোফোকাস সিস্টেমের সাথেই পাওয়া যায় যার জটিলতাকে বোঝা অনেক ফটোগ্রাফারের কাছেই বেশ  কঠিন এবং খুব সত্যি করে বললে তার দরকারও পড়ে না। আপনি এন্ট্রি-লেভেল বা পেশাদার ক্যামেরা দিয়ে শুটিং করছেন কিনা, কীভাবে আপনার ক্যামেরার  অটোফোকাস সিস্টেমকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করবেন সেটা জানা শার্প ফোকাসের ছবি পাওয়ার জন্য খুব দরকার। ঠিকঠাক ফোকাসে না থাকা ঝাপসা ছবি একটি প্রবল  সম্ভাবনাময় ইমেজকেও একেবারে শেষ করে দিতে পারে কারণ আউট অফ ফোকাস বা সফ্ট ফোকাসের কোনো ছবিকে  পোস্ট-প্রসেসিংয়ে কারেক্ট করা কার্যত অসম্ভব। যদিও ইদানিং এআই সমৃদ্ধ কিছু পোস্ট প্রসেসিং সফটওয়ার এই রকম ছবিকেও অনেকটাই ঠিকঠাক করে দিচ্ছে। ক্যামেরাতে যে অটো ফোকাস মোডগুলো রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে অনেকেরই সম্পূর্ন ধারণা নেই। কিন্তু এটা এড়িয়ে গেলে চলবে না যে  আপনার ফটোগ্রাফিকে একধাপ উন্নত   করার সেরা উপায়গুলির মধ্যে একটি হ’ল অটোফোকাস মোডগুলি এবং তাদের ব্যাবহারিক প্রয়োগের সম্ভাবনাগুলোকে বোঝা! (ছবি ১ এবং ২)

 সহজ কথায়, আপনি ম্যানুয়াল ফোকাস বা অটোফোকাস করে আপনার ছবির সবাজেক্টকে ফোকাস করতে পারেন। ম্যানুয়াল ফোকাসে আপনি ফোকাসের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাবেন, অন্যদিকে অটোফোকাসে ক্যামেরা আপনার জন্য এই কাজটি করে দেবে।  ডিজিটাল যুগের আগে ফিল্ম ক্যামেরায় যখন অটোফোকাসিং প্রযুক্তি ছিলো না,সেই সময়   দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ফটোগ্রাফারদের জন্য ম্যানুয়ালি ফোকাস করাই ছিলো একমাত্র বিকল্প। ম্যানুয়াল ফোকাস মোডে (এমএফ)  আপনি আপনার লেন্সের ফোকাস দূরত্ব সেট করতে ম্যানুয়ালি লেন্সের ফোকাস রিংকে অ্যাডজাস্ট করেন। ক্যামেরার ফোকাস তখন সম্পুর্নভাবে আপনার নিয়ন্ত্রণে। যেখানে আপনার ছবির সাবজেক্ট সম্পূর্ন স্থির যেমন ধরুন কোনো পোর্ট্রেট শুট করার ক্ষেত্রে, ম্যানুয়াল ফোকাস কিন্তু আপনাকে সবচাইতে ভালো রেজাল্ট দিতে পারে। এছাড়াও ম্যানুয়াল ফোকাস মোড সাধারণত অ্যাস্ট্রোফোটোগ্রাফির মতো কম আলোর পরিস্থিতিতে এবং ম্যাক্রো, আর্কিটেকচার এবং ল্যান্ডস্কেপ এর মতো অন্যান্য কিছু ছবি শুটিং করার সময় অটোফোকাসের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য।

ডিজিটাল যুগের ক্যামেরা কিন্তু ম্যানুয়াল ফোকাসের পাশাপাশি  অত্যাধুনিক অটোফোকাস নিয়ে আপনার কাছে উপস্থিত। যদিও ফিল্ম ক্যামেরার যুগে ছবির সাবজেক্টকে ফোকাসে রাখার জন্য মূলত ম্যানুয়াল ফোকাসকেই আয়ত্বে আনতে হতো। কিন্তু আজ, যে কেউ কেবল সঠিক অটোফোকাস মোডে স্যুইচ করে ফোকাসের পুরো কাজটাই ক্যামেরাকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারে এবং বিশ্বাস করুন আপনি যদি ক্যামেরার অটোফোকাস কে সঠিক ভাবে কাজে লাগান তাহলে নিশ্চিন্ত থাকুন আপনার সাবজেক্ট অফ ফোকাস হবে না। যতো দিন যাচ্ছে, অটোফোকাস সিস্টেম  ভালো থেকে  আরও ভালো হয়ে উঠছে – হাল আমলে  সস্তার ক্যামেরাও এখন জটিল কিন্তু কার্যকরী অ্যালগরিদম সমৃদ্ধ অটোফোকাস সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবির দৃশ্যকে স্ক্যান করতে পারে এবং সহজেই সাবজেক্টকে ডিটেক্ট করতে পারে। কিছু আধুনিক ক্যামেরা  ছবিতে সাবজেক্টের  মুখ এবং চোখ ডিটেক্ট করতে পারে, তা সে মানুষ বা অন্য প্রাণী যাই হোক। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে সঠিকভাবে ছবির আলো এবং ফোকাস কে নির্ধারণ করতে পারা এখন প্রায় প্রতিটি ক্যামেরা কোম্পানির ট্রাম্প কার্ড। (ছবি ৩)

ছবি ৩

এই সমস্ত জটিল বিষয়গুলোকে একপাশে রেখে, আমরা আমাদের ফটোগ্রাফিতে শার্প ফোকাসের ব্যাপারে মন দিতে পারি কিন্তু তার জন্য আমাদের ক্যামেরা এবং অটোফোকাসের কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। খুব সহজভাবে বললে এই জটিল অটোফোকাস মূলত দু ধরনের, অ্যাক্টিভ আর প্যাসিভ। ছবি তোলার সময় একটা খুব কমন অভিজ্ঞ্যতা হলো ক্যামেরা থেকে সবুজ বা লাল আলো দেখা  বিশেষত কম আলোতে  শুট করার অবস্থায়। ক্যামেরা থেকে কেন এই রশ্মি বের হয় ?  কারণ হলো ক্যামেরা সেই আলোর রশ্মি দিয়ে অ্যাক্টিভ অটোফোকাস করার চেষ্টা করছে এবং এর মাধ্যমে লেন্সের ফোকাল দূরত্ব নির্ধারণের জন্য সাবজেক্টের দূরত্ব পরিমাপ করছে। অন্যদিকে, প্যাসিভ অটোফোকাস  অনেক বেশি জটিল পদ্ধতি। আপাতত আমরা সেই জটিলতা বরং এড়িয়ে ছবি তোলার প্রসঙ্গে আসি।

অটোফোকাস সিস্টেম প্রাথমিকভাবে তিন ধরণের: –

কনট্রাস্ট ডিটেকশন, ফেজ ডিটেকশন এবং এই দুয়ের মিশ্র ধরন – হাইব্রিড।

আমরা যদি এই সমস্ত প্রক্রিয়াগুলির জটিলতার গভীরে ডুব দিতে না চাই তাতে কোনও সমস্যা নেই। যেহেতু কনট্রাস্ট ডিটেকশন  অটোফোকাস সিস্টেমের জন্য আলোকে সরাসরি ইমেজিং সেন্সরে পড়তে হয়, তাই কনট্রাস্ট ডিটেকশন সিস্টেম কাজ করার জন্য ডিএলএসআর বা মিরোরলেস ক্যামেরাকে “লাইভ ভিউ” মোডে রাখতে হবে। সাধারণভাবে এর অর্থ হ’ল ডিএসএলআরগুলি ফেজ এবং কনট্রাস্ট ডিটেকশন এএফ দুইই ব্যবহার করতে পারে, ফেজ ডিটেকশন এর জন্য অপটিক্যাল ভিউফাইন্ডার ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, কিন্তু ক্যামেরার  পিছনের  এলসিডি ব্যবহার না করলে কনট্রাস্ট ডিটেকশন অটোফোকাস তার কাজই করবে না।

 যেহেতু ফেজ ডিটেকশন এএফ  কনট্রাস্ট-ডিটেকশন এএফএর চেয়ে অনেক ফাষ্ট, ক্যামেরা কোম্পানিগুলো ইমেজিং সেন্সরে সরাসরি পৃথক ফেজ ডিটেকশন এএফ সেন্সর লাগানোর উপায় খুঁজে পেয়ে সেটাই কাজে লাগাচ্ছে। একইভাবে, বেশিরভাগ মিররলেস ক্যামেরা আজ দু ধরণের অটোফোকাসই করতে পারে।

একটি জিনিস আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে ছবির দৃশ্যের কনট্রাস্ট সফল অটোফোকাসিংয়ের অন্যতম মূল কারণ।  আর অটোফোকাস এরিয়া মোডের সঠিক প্রয়োগ ছবির আউটপুটে যথেষ্ট পার্থক্য তৈরি করে দেয়।

ছবি ৪

ছবি তোলার সময় অটোফোকাস এরিয়া মোডের ব্যাবহারিক প্রয়োগে যাবার আগে আমাদের এটা জানা দরকার যে আমরা অটোফোকাসকে প্রাথমিকভাবে তিন ভাগে ভাগ করতে পারি: – এএফ-এস (অটোফোকাস- সিঙ্গেল এরিয়া অটোফোকাস), এএফ-সি (অটোফোকাস – কন্টিনিউয়াস) বা এআই সার্ভো; এএফ-এ (অটোফোকাস – অটো) বা এএফ এআই । একটি খুব সহজ টিপস হ’ল আপনি যখন কোনও স্থির সাবজেক্ট বা ল্যান্ডস্কেপ বা পোর্ট্রেট শ্যুট করছেন যেখানে আপনার ফটোগ্রাফিক সাবজেক্ট নড়াচড়া করছে না, তখন এএফ-এস ব্যবহার করুন। উল্টোদিকে, যখন আপনার সাবজেক্ট চলমান  বা আপনি সাবজেক্টের সম্ভাব্য মুভমেন্ট অনুমান করছেন (ধরুন একটি পাখি এখন একটি গাছে বসে আছে কিন্তু যে কোনও সময় উড়ে যেতে পারে),তখন এএফ-সি মোড ব্যবহার করুন। কিছু ক্যামেরায় “এএফ অটো” (এএফ-এ) বা “এআই ফোকাস এএফ” (ক্যানন) নামে একটি মোড ও থাকে, যা মূলত একটি হাইব্রিড মোড যা নিজে থেকে এএফ-এস এবং এএফ-সি মোড এর মধ্যে স্যুইচ করে। যদি ক্যামেরাটি মনে করে যে বিষয়টি স্থিতিশীল, তবে ক্যামেরা এএফ-এস এ স্যুইচ করে এবং যদি সাবজেক্ট নড়াচড়া করে তবে অটোমেটিক্যালি এএফ-সি মোডে স্যুইচ করবে। বাই -ডিফল্ট, বেশিরভাগ এন্ট্রি-লেভেল ক্যামেরাতে এএফ-এ মোডে সেট করা থাকে, যা বেশিরভাগ পরিস্থিতিতেই বেশ ভাল রেজাল্ট দেয়। অনেক হাই-এন্ড বা পেশাদার ক্যামেরাতে কিন্তু এই মোড নেই কারণ এই সম্পূর্ন ক্যামেরা নির্ভর মোড মূলত নতুন ফটোগ্রাফারদের প্রয়োজন মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। খোলাখুলিভাবে বলতে গেলে এএফ-এ মোড অটোফোকাসিং আপনাকে সর্বদা সেরা ফলাফল নাও দিতে পারে কারণ এই মোডে আপনি কেবলমাত্র ক্যামেরার এআই দ্বারা নেওয়া সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছেন।(ছবি ৪ )

ফুল-টাইম সার্ভো (AF-F) ফোকাস মোড

এই বিশেষ মোড “এএফ-এফ” নামেও পরিচিত। নিকন বিশেষত তার ডিএসএলআর এবং মিররলেস ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ডিংয়ের জন্য এই মোড চালু করেছিল। এই মোডটি অটোমেটিকভাবে সাবজেক্ট মুভমেন্ট ট্র্যাক করে এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময় সাবজেক্টকে ফোকাস  করে। আপনি যদি ভিডিও শ্যুট না করেন তবে এই মোড সম্পর্কে আপনার না জানলেও হবে।

ছবি ৫ সিঙ্গেল টাইপ এএফ পয়েন্ট


ছবি ৬, ক্রস টাইপ এএফ পয়েন্ট

ফটোগ্রাফির দৃষ্টিকোণ থেকে, অটোফোকাসিং পদ্ধতির চেয়ে অটোফোকাস এরিয়া মোড সম্পর্কে জানা বোঝাটা আরও বেশি দরকারি। অটোফোকাস মোডে  একটি ট্যাক শার্প ছবি নেওয়ার জন্য আমাদের ফ্রেমের অটোফোকাস পয়েন্টের সম্পর্কে কিছুটা ধারণা রাখতে হবে। প্রতিটি ক্যামেরা মেকার সাধারণত তাদের ক্যামেরায়  অটোফোকাস পয়েন্ট ডিজাইন করে এবং একারণেই আমরা বিভিন্ন ক্যামেরা মেক এবং মডেলে বিভিন্ন সংখ্যক অটোফোকাস পয়েন্ট দেখি। যেহেতু অটোফোকাস প্রাথমিকভাবে দুটি ধরণের, কনট্রাস্ট ডিটেকশন এবং ফেজ ডিটেকশন (হাইব্রিড টাইপ আসলে এই দুইয়ের সংমিশ্রণ), ( ছবি ৫ এবং ৬ )।

প্রতিটি অটোফোকাস পয়েন্টও মূলত দুরকম,- সিঙ্গল এবং ক্রস টাইপ অটোফোকাস পয়েন্ট। সিঙ্গল টাইপ অটোফোকাস পয়েন্ট হয় হরাইজন্টাল বা ভার্টিকাল কনট্রাস্ট ডিটেক্ট করে উল্টোদিকে ক্রস টাইপ অটোফোকাস পয়েন্ট যে কোনও দিকে কনট্রাস্ট ডিটেক্ট করতে পারে। যে কারণে স্পষ্টতই  ক্রস টাইপ অটোফোকাস পয়েন্টগুলো সিঙ্গল টাইপ অটোফোকাস পয়েন্টের তুলনায় আরও নির্ভুল এবং ফাস্ট। এই এএফ পয়েন্টগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো কম আলোতেও বাড়তি সেনসিটিভিটি। কম আলোতে বেশি সেনসিটিভ মানে   অটোফোকাসিং আরও নির্ভুল হওয়া। বিভিন্ন ক্যামেরা মেক এবং মডেলের এএফ পয়েন্ট ৯ থেকে কয়েক’শ পর্যন্ত হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই যতো বেশি সংখ্যক এএফ পয়েন্ট থাকবে ততো বেশি ফ্রেমের এরিয়া কভার করবে অর্থাৎ ততো বেশি হবে নিখুঁত অটোফোকাস।

সোনির নতুন আলফা ৬৩০০ মডেলে (ক্রপ সেন্সর ক্যামেরা) আছে ৪২৫ ফেজ ডিটেকশন এএফ পয়েন্ট  যার অটোফোকাস স্পিড ০.০৫ সেকেন্ডেরও কম। নিকন জেড ৬ এবং জেড ৭, দুটোই ফুল ফ্রেম মিররলেস যাদের যথাক্রমে ২৭৩ এবং ৪৯৩  এএফ পয়েন্ট রয়েছে। এএফ পয়েন্টগুলির সংখ্যার সাথে এর টাইপটাও ভাল  অটোফোকাসিংয়ের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ ক্রস টাইপ এএফ পয়েন্ট সিঙ্গল টাইপ এএফ পয়েন্টের চেয়ে বেশি নিপুণভাবে অটোফোকাস করতে পারে।

অটোফোকাস এরিয়া মোড  (ছবি ৭)

ছবি ৭

এই তো এতক্ষণ অটোফোকাস মোড নিয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ করে আবার এই অটোফোকাস এরিয়া মোড কোথা থেকে এলো ? এখানে একটা কথা খুব সহজ ভাবে মনে রাখতে হবে যে অটোফোকাস এর মূল কাজই হলো অটোমেটিক্যালি ফোকাস করা। ছবির দৃশ্যকে আমরা যখন ক্যামেরার ভিউফাইন্ডার বা এলসিডি স্ক্রীনে দেখছি তখন ক্যামেরা সেই ফ্রেমের মধ্যে অনেক সংখ্যক অটোফোকাস পয়েন্টের মাধ্যমে ছবির সাবজেক্টকে আরো সূক্ষ ও নিখুঁত ভাবে ফোকাস করার জন্য অটোফোকাস এরিয়া মোডের ব্যবহার করে থাকে। এখনকার ডিজিটাল ক্যামেরায় “এএফ-এরিয়া মোড”  ফটোগ্রাফারদের এএফ-এস, এএফ-সি, এএফ-এ এবং এএফ-এফ মোডে ছবি তোলার সময়  বেশ কয়েকটি অপশন সিলেক্ট করতে দেয়। এন্ট্রি-লেভেল বা আধা-পেশাদার ক্যামেরার  মেনু থেকে একটি নির্দিষ্ট “এএফ-এরিয়া মোড” সিলেক্ট করা যায়। প্রো-লেভেল ক্যামেরাতে সাধারণত এটির জন্য একটি ডেডিকেটেড বোতাম থাকে। এএফ এরিয়া মোডের সঠিক ব্যবহারের জন্য, আপনার  নিজের ক্যামেরার ম্যানুয়াল ভালো করে পড়ে ফেলুন কারণ বিভিন্ন ক্যামেরা মডেলের  মেনু স্ট্রাকচার একরকম হয় না।

এই এএফ-এরিয়া মোডগুলো করেটা কি ? এই প্রশ্নের উত্তরে যাবার সাথে সাথেই বিভিন্ন রকম এএফ- এরিয়া মোড নিয়েও আলোচনা করে নেব কারণ ছবির সাবজেক্টের শার্প ফোকাস পেতে গেলে এই আলোচনা না করে উপায় নেই।

পিন পয়েন্ট এএফ এরিয়া মোড (ছবি ৮)

ছবি ৮

বলা যেতে পারে পিনপয়েন্ট এএফ মোডটি  নিকন ক্যামেরার এক স্পেশাল মোড যা ফ্রেমের খুব ছোট অংশকে সঠিকভাবে ফোকাস করার জন্য কনট্রাস্ট ডিটেকশন এএফ ব্যবহার করে। আদতে এই অটোফোকাস পয়েন্টটি একটি ছোট স্পটে ফোকাস করে এবং আপনি চাইলে একে ফ্রেমের যেকোনো জায়গায় নিয়ে গিয়ে শুধুমাত্র সেই ছোট্ট স্পটকেই ফোকাস করতে পারেন। যে ছবিতে সাবজেক্ট স্থির (যেমন ল্যান্ডস্কেপ, আর্কিটেকচার, প্রোডাক্ট, ম্যাক্রো ইত্যাদি) ছবি তোলার সময় আপনার যদি সুনির্দিষ্ট ফোকাসের দরকার হয় তাহলে এই মোডটি ব্যবহার করুন। মনে রাখতে হবে যে এটি কিন্তু শুধুমাত্র AF-S মোডেই পাওয়া যায়।

 

সিংগল-পয়েন্ট এএফ-এরিয়া মোড (ছবি ৯)

আপনি যখন “সিঙ্গেল পয়েন্ট” (নিকন) বা “ম্যানুয়াল এএফ পয়েন্ট” (ক্যানন) এএফ-এরিয়া মোড সিলেক্ট করে ছবি তুলবেন, ক্যামেরাটি ফ্রেমের সমস্ত ফোকাস পয়েন্টের মধ্যে থেকে আপনার পছন্দ মতো কেবলমাত্র একটি ফোকাস পয়েন্টই অটোফোকাস এর জন্য ব্যবহার করে ছবির সাবজেক্টকে ফোকাস করবে। সুতরাং, আপনি যদি আপনার ফোকাস পয়েন্টটি উপরে ,নীচে ,বাদিকে বা ডানদিকে সরান তবে ক্যামেরাটি কেবল মাত্র সেই নির্দিষ্ট ফোকাস পয়েন্টের কনট্রাস্ট ডিটেক্ট করেই অটোফোকাস করবে। ল্যান্ডস্কেপ, আর্কিটেকচার এবং অন্যান্য স্থির বিষয়গুলির ছবি তোলার সময় আপনি সিঙ্গেল পয়েন্ট এএফ-এরিয়া মোড ব্যবহার করতে পারেন।

ছবি ৯

তাহলে প্রশ্ন দাড়ালো স্পট আর সিঙ্গল পয়েন্ট এএফ এরিয়া মোডের মধ্যে পার্থক্য কি ? আসলে পার্থক্য টা খুব সুক্ষ। সিঙ্গল পয়েন্ট মোডে আপনার ক্যামেরার ফ্রেমে মোট যতগুলো এএফ পয়েন্ট আছে তার মধ্যে যেকোনো একটি পয়েন্ট কে আপনি সিলেক্ট করছেন। ধরা যাক দুটো  ক্যামেরার ফ্রেমে যথাক্রমে ৯ এবং ৫১ টা অটোফোকাস পয়েন্ট আছে। তাহলে প্রথম ক্যামেরার ক্ষেত্রে প্রতি এএফ পয়েন্ট পিছু ফ্রেমের কভারেজ অনেক বেশি দ্বিতীয় ক্যামেরার থেকে। অর্থাৎ দুটো ক্ষেত্রেই সিঙ্গল পয়েন্ট এএফ এরিয়া মোড ব্যবহার করা হলেও প্রথম ক্যামেরা অনেকটাই বেশি এরিয়া ধরে ফোকাস করবে। এবার ধরুন কোনো গাছের ডালে পাতার ফাঁকে আপনি একাধিক ছোট পাখির ছবি তুলতে চাইছেন কিন্তু তারই মধ্যে যে পাখিটিকে আপনি মূল সাবজেক্ট করতে চাইছেন সে ফ্রেমের যতোটা জায়গা নিচ্ছে সেটা ওই ক্যামেরার সিঙ্গল পয়েন্ট এএফ এরিয়া মোডের থেকেও কম ! অর্থাৎ আপনার অটোফোকাস এরিয়া যদি আরো ছোট হতো তাহলে আপনি কিন্তু ওই একটি পাখিকেই শুধু ফোকাস করতে পারতেন  কিন্তু সিঙ্গল পয়েন্ট মোডে সেটা হচ্ছে না। এখানেই দরকার স্পট এএফ এরিয়া মোডের। স্পট মোডে সিঙ্গল পয়েন্ট মোডের থেকেও ছোট জায়গাতে ফোকাস করা যায় আর তাই আপনার কাঙ্খিত পাখিটির ছবি ওই স্পট মোডে তুললে ছবির ব্যঞ্জনা আরো অনেক প্রকাশ হবে। একটা কথা এখানে মাথায় রাখতে হবে যে হাতে ক্যামেরা নিয়ে স্পট মোডে ছবি তোলা কিন্তু খুবই কঠিন কারণ যে কোনো সময়ে সাবজেক্টের উপর থেকে ফোকাস সরে যেতে পারে।

ডায়নামিক এএফ এরিয়া মোড( নিকন)/এক্সপ্যানশন এএফ এরিয়া মোড ( ক্যানন)  (ছবি ১০)

ছবি ১০

“ডায়নামিক” (নিকন) বা “এএফ পয়েন্ট এক্সপ্যানশন” (ক্যানন) এএফ-এরিয়া মোডে, আপনি একটিই  ফোকাস পয়েন্ট সিলেক্ট করছেন এবং ক্যামেরা প্রাথমিকভাবে সেই নির্দিষ্ট ফোকাস পয়েন্টেই ফোকাস  করবে। একবার ফোকাস করা হয়ে গেলে, যদি আপনার সাবজেক্ট  নড়াচড়াও করে তবে ক্যামেরা আশেপাশের ফোকাস পয়েন্টগুলো সাবজেক্ট এর মুভমেন্ট ট্র্যাক করে সাবজেক্টের উপর ফোকাস ধরে রাখবে। আপনি শুধু সাবজেক্টের মুভমেন্টের সাথে ক্যামেরাটি প্যান করে সাবজেক্টকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ফোকাস পয়েন্টের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করবেন আর সেটা হলেই ক্যামেরা আপনার সাবজেক্টকে  ট্র্যাক করবে। যদি ক্যামেরা  আশেপাশের অন্যান্য এএফ পয়েন্টকে কাজে লাগিয়ে সাবজেক্টকে ট্র্যাক করে তবে ক্যাপচারের সময় সেটা ভিউফাইন্ডারের মধ্যে সরাসরি দেখা নাও যেতে পারে।

সব এএফ পয়েন্ট নিয়ে ৩-ডি ট্র্যাকিং ছবি ১১

ডায়নামিক এএফ-এরিয়া মোড বার্ডিং ফটোগ্রাফীর ক্ষেত্রে দুর্দান্ত রেজাল্ট দেয়। পাখির মতো ফাস্ট মুভিং সাবজেক্টকে ফ্রেমের মধ্যে ফোকাসে রাখাই খুব কঠিন তার উপর যখন পাখি উড়ছে বা জাস্ট উড়তে যাচ্ছে তখন তো পরিস্থিতি আরো কঠিন ফোকাস করার ক্ষেত্রে। হাই-এন্ড ডিএসএলআর এবং মিররলেস ক্যামেরাতে এই ডায়নামিক এরিয়া মোডে এএফ পয়েন্টের সংখ্যা আপনি নিজেই সিলেক্ট করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার প্রাথমিক ফোকাস ঠিক করার পর সাবজেক্টের মুভমেন্টের জন্য আশেপাশের কতগুলো ফোকাস পয়েন্টকে আপনি এনগেজ করবেন সেটা আপনিই ঠিক করে দিতে পারেন। যেমন নিকন ডি ৮৫০ ক্যামেরাতে ডায়নামিক এএফ-এরিয়া মোডে ৯, ১১, ২১ এবং ৫১ পয়েন্টের মধ্যে সিলেক্ট করতে দেয়। সুতরাং আপনি যদি কেবল ফ্রেমের একটি ছোট্ট অংশ ট্র্যাক করতে চান তবে আপনি ৯ পয়েন্ট বেছে নেবেন আর আপনি যদি পুরো ফ্রেমটি ট্র্যাক করতে চান তবে আপনি আপনার সাবজেক্ট সহ পুরো ফ্রেমের জন্য  সব কটা পয়েন্ট অর্থাৎ ৫১ টা পয়েন্টই বেছে নিতে পারেন।

সহ পুরো ফ্রেমের জন্য  সব কটা পয়েন্ট অর্থাৎ ৫১ টা পয়েন্টই বেছে নিতে পারেন।

নিকনের অনেক আধুনিক ক্যামেরায় একটি “৩-ডি-ট্র্যাকিং মোড” আছে, যেখানে আপনি প্রাথমিকভাবে এএফ পয়েন্টটি সিলেক্ট করবেন এবং তারপর থেকে ক্যামেরাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাবজেক্ট মুভমেন্ট ট্র্যাক করার জন্য প্রয়োজনীয় ফোকাস পয়েন্টগুলো অ্যাক্টিভ করে নেবে। 3 ডি-ট্র্যাকিং মোডের সবথেকে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো এখানে ক্যামেরা একটি স্পেশাল ইমেজ রিকগনিশন সিস্টেম ব্যবহার করে যার মাধ্যমে ক্যামেরা দৃশ্যের কালার সিকোয়েন্স কে এমনভাবে অ্যানালাইসিস করে যাতে সাবজেক্টকে ক্যামেরা অটোমেটিক্যালি ট্র্যাক করতে পারে এবং আপনিও সাবজেক্টের উপর ফোকাসের চিন্তা থেকে কিছুটা মুক্ত হয়ে কম্পোজিশন এর দিকে মন দিতে পারেন।  মনে করুন, আপনি  অনেক কালো পাখির মধ্যে একটি সাদা পাখির ছবি তুলছেন। এই ক্ষেত্রে আপনি  ৩-ডি-ট্র্যাকিং মোড অ্যাক্টিভ করে দিলে সিস্টেমটিই নিজে থেকে সাদা পাখির দিকে ফোকাস করবে এবং ট্র্যাক করবে, এমনকি যদি পাখিটি মুভমেন্ট করে বা আপনি ক্যামেরা সরিয়ে আপনার ছবিকে রিকম্পোজ করতে চান তাহলেও কোনো সমস্যা নেই। (ছবি ১১)

এখানেও আবার একটা প্রশ্ন উঠে এলো। ডায়নামিক এএফ এরিয়া মোড আর ৩- ডি ট্র্যাকিং এর মধ্যে তফাৎ কি ? কোন ক্ষেত্রে কোনটা ব্যবহার করবো ? (ছবি ১২)

ছবি ১২ ডায়নামিক গ্রুপ এএফ (ডি ৯)


ছবি ১৩, ডায়নামিক এএফ এরিয়া(ডি ৯)

সহজ করে বললে ৩- ডি ট্র্যাকিংয়ের সময় ক্যামেরাতে যতগুলো অটোফোকাস পয়েন্ট আছে সবকটা অটোফোকাস পয়েন্টকেই কাজে লাগিয়ে অটোফোকাস এবং ট্র্যাকিং করে কিন্তু ডায়নামিক এএফ এরিয়া মোডে আপনি যতগুলো পয়েন্ট কে এই কাজের জন্য সিলেক্ট করেছেন ততগুলো এএফ পয়েন্টই সাবজেক্টের ফোকাস ও ট্র্যাকিং করতে ক্যামেরা কাজে লাগাবে। যেমন, আপনি যদি ৯ টি ফোকাস পয়েন্ট সিলেক্ট করেন তবে সাবজেক্ট ট্র্যাকিং কেবলমাত্র ৯ টি  ফোকাস পয়েন্ট দিয়েই হবে এবং সেটাও একটি জোনের মধ্যে কাজ করবে যা আপনার সিলেক্টেড ফোকাস পয়েন্টের চারপাশে রয়েছে। যদি আপনার সাবজেক্ট এই ৯ ফোকাস পয়েন্ট থেকে দূরে সরে যায় তবে ক্যামেরা কিন্তু আর সাবজেক্টের উপর ফোকাস ধরে রাখতে পারবেনা।  ৩ ডি-ট্র্যাকিং মোডে,  কিন্তু সাবজেক্টকে ট্র্যাক করা চালিয়ে যাবে (নতুন সিলেক্টেড ফোকাস পয়েন্টগুলো ভিউফাইন্ডারে দেখতে পাবেন), এমনকি যদি সাবজেক্টের মুভমেন্টের ফলে তার প্রাথমিক ফোকাস পয়েন্ট থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে দূরে সরেও যায়।

বন্যপ্রাণীর ছবি তোলার সময় অনেক ফটোগ্রাফার সাধারণত একটা জোন ভিত্তিক এএফ পয়েন্ট ( ৯ বা ১৫ এএফ পয়েন্ট ) অ্যাক্টিভেট করে ডায়নামিক এএফ-এরিয়া মোডটি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করে থাকেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা খুবই ভালো রেজাল্ট পান। তবে যদি ছবি তোলার দৃশ্য  খুবই বিশৃঙ্খল হয় এবং ধরা যাক আমার দিকেই( অর্থাৎ ক্যামেরার দিকেই ) একগুচ্ছ  পাখি এলোমেলো ভাবে উড়ছে, তবে ৩ ডি-ট্র্যাকিং মোডটি বেছে নেওয়াই হবে  সাবজেক্টকে ফোকাস করার এবং ক্রমাগত ট্র্যাক করার জন্য সবচাইতে ভালো বেট। (ছবি ১৩)।

অটো-এরিয়া এএফ মোড (ছবি ১৪)

ছবি ১৪, অটো এরিয়া এএফ

“অটো-এরিয়া এএফ” (নিকন) বা “অটো এএফ পয়েন্ট সিলেকশন” (ক্যানন) মোড হ’ল ফোকাস করার “পয়েন্ট-অ্যান্ড-শ্যুট” পদ্ধতি। আপনি কী ছবি তুলছেন তার উপর নির্ভর করে এটি নিজে থেকেই কি ফোকাস করতে হবে তা সিলেক্ট করবে। এ এক বেশ জটিল মোড কারণ এটি আসলে ফ্রেমে কোনও মানুষের স্কিন টোনকে চিনে নেবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের উপর ফোকাস করবে। যদি ফ্রেমে একাধিক লোকজন থাকে তবে এই মোড ক্যামেরার সবথেকে কাছে থাকা মানুষটির উপর ফোকাস করবে। যদি ক্যামেরা কোনও স্কিন টোন  না চিনতে পারে তবে এটি সাধারণত ফ্রেমের সবথেকে কাছের বা  সবথেকে বড় সাইজের  জিনিসের উপর ফোকাস করবে। আপনি যদি এএফ-এস মোডে শ্যুট করেন এবং “অটো-এরিয়া এএফ” নির্বাচন করেন তবে ক্যামেরা এক সেকেন্ডের জন্য কোন ফোকাস পয়েন্টগুলি ব্যবহার করবে তা দেখাবে যাতে আপনি বুঝতে পারবেন যে ক্যামেরা কোন জোন এর উপর ফোকাস করছে। একই জিনিস ক্যানন ক্যামেরাতেও করা যেতে পারে, তবে তখন তাকে “ওয়ান-শট এএফ মোড (অটো এএফ পয়েন্ট সিলেকশন)” বলে।

 

গ্রুপ-এরিয়া এএফ মোড (ছবি ১৫)

ছবি ১৫, গ্রুপ এরিয়া এএফ

এই নিকন-স্পেসিফিক মোডকে “গ্রুপ-এরিয়া অটোফোকাস” বলে।  সিঙ্গেল-পয়েন্ট এএফ মোডের সাথে তুলনা করলে, গ্রুপ-এরিয়া এএফ মোডে সাবজেক্ট ট্র্যাক করতে পাঁচটি ফোকাস পয়েন্ট অ্যাক্টিভ করে। এই ফোকাস মোডটি সিঙ্গল-পয়েন্ট বা ডায়নামিক এএফের তুলনায় সাবজেক্টের প্রাথমিক ফোকাস  এবং ট্র্যাকিং করার জন্য দুর্দান্ত, বিশেষত  ছোট পাখিদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে কারণ এই ছোট পাখিগুলো প্রায়ই অনিয়মিতভাবে উড়ে যায় এবং এদের ফোকাস করা এবং ট্র্যাক করা সত্যিই কঠিন । এই পরিস্থিতিতে, গ্রুপ-এরিয়া এএফ মোড ডায়নামিক এএফের চেয়ে ভাল রেজাল্ট দিতে পারে, আরও ভালো শট-টু-শট অ্যাকুরিসি পেতে পারেন।

গ্রুপ-এরিয়া এএফ কিভাবে কাজ করে? মূলত, ভিউফাইন্ডারের মধ্যে, আপনি চারটি ফোকাস পয়েন্ট দেখতে পাবেন, পঞ্চমটি মাঝখানে লুকানো থাকে। আপনি ক্যামেরার পিছনে মাল্টি- কন্ট্রোলার টিপে চারটি ফোকাস পয়েন্ট সরাতে পারেন (সবচাইতে নিখুঁত রেজাল্ট পেতে গেলে, আপনি ফ্রেমের মাঝখানে থাকতে চাইবেন, কারণ ফ্রেমের সেন্টারে ফোকাস পয়েন্টগুলি ক্রস-টাইপ এবং অটোফোকাস সবথেকে নিখুঁত)। যখন কোনও সাবজেক্টের দিকে ক্যামেরা তাক করছেন তখন প্রাথমিক ফোকাস করার জন্য পাঁচটি ফোকাস পয়েন্ট একসাথেই অ্যাক্টিভ হয় কিন্তু  ক্যামেরার সবথেকে কাছে থাকা সাবজেক্টকে প্রায়োরিটি দেয়।  এটি ডায়নামিক ৯ (ডি ৯) এএফ মোড থেকে কিছুটা আলাদা, কারণ ডি ৯ মোডে যে ৯ টা ফোকাস পয়েন্ট সিলেক্ট করা হয় তার মধ্যে  সেন্টার ফোকাস পয়েন্টকে প্রায়োরিটি দিয়ে সেন্টার ফোকাস পয়েন্টের চারপাশে ৮ টি ফোকাস পয়েন্টকে অ্যাক্টিভ করে। ডি-৯ মোডে ক্যামেরা যদি  সেন্টার ফোকাস পয়েন্ট (ধরা যাক ফ্রেমের সেই এরিয়াতে পর্যাপ্ত কনট্রাস্ট নেই) ব্যবহার করে ফোকাস করতে ব্যর্থ হয় তবে বাকি ৮ টা ফোকাস পয়েন্টকে  সাথে নিয়ে এটি ফোকাস করার চেষ্টা করে।এই মোডে  ক্যামেরা মূলত সেন্টার ফোকাস পয়েন্টকে প্রায়োরিটি দেবে এবং অটোফোকাস সম্ভব না হলে কেবল তখনই অন্য ৮টি ফোকাস পয়েন্টকে কাজে লাগাবে। কিন্তু গ্রুপ-এরিয়া এএফ একই সাথে সমস্ত ৫ ফোকাস পয়েন্ট ব্যবহার করবে এবং ৫ ফোকাস পয়েন্ট এর কোনওটিকে অগ্রাধিকার না দিয়ে নিকটতম সাবজেক্টের উপর ফোকাস করার চেষ্টা করবে।

পাখি, বন্যপ্রাণী এবং নন-টিম স্পোর্টসের ছবি তোলার সময় গ্রুপ-এরিয়া এএফ বিশেষ দরকারী মোড। একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। মনে করুন গাছের ডালের উপর বসে থাকা একটি পাখি এবং আপনি পাখিটিকে কিছুটা উপর থেকে দেখছেন এবং ওই অ্যাঙ্গেল এর জন্য  পাখিটার পিছনে পরিষ্কার জমি দেখা যাচ্ছে। ডায়নামিক এএফ মোডে  ক্যামেরা কিন্তু প্রাথমিকভাবে পাখির উপরেই ফোকাস করার চেষ্টা করবে। আপনি যদি পাখির উপর সঠিক ভাবে ক্যামেরা তাক করতে পারেন তবে ক্যামেরা পাখিকেই ফোকাস করবে। কিন্তু আপনি যদি দুর্ঘটনাক্রমে পাখির পিছনের মাটির দিকে ক্যামেরা তাক করেন তবে ক্যামেরা কিন্তু পাখি ছেড়ে  ব্যাকগ্রাউন্ডেই ফোকাস করবে। ছোট পাখির ছবি তোলার সময় এই মোডটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, বিশেষত  তারা যে গাছের ডালে বসে থাকে তা যদি ক্রমাগত নড়াচড়া করে। আপনি যতো তাড়াতাড়ি প্রাথমিক ফোকাস পয়েন্ট সিকিউর করবেন, ছবি  ক্যাপচার এবং ট্র্যাকিং করার সম্ভাবনা তত ভালো হবে বিশেষত হঠাৎ করে যদি পাখিটা উড়ে যায়।

 

ছবি ১৬, আই ডিটেকশন এএফ

গ্রুপ-এরিয়া এএফ-মোডে, কোনও ফোকাস পয়েন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না, তাই  ৫টা ফোকাস পয়েন্টই একসাথে অ্যাক্টিভ থাকে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেহেতু পাখিটি ব্যাকগ্রাউন্ডের চেয়ে কাছাকাছি, তাই ৫ টি ফোকাস পয়েন্ট গুলোর মধ্যে একটিও যদি পাখির কাছাকাছি থাকে, তাহলেই ক্যামেরা  পাখিকেই ফোকাস করবে, ব্যাকগ্রাউন্ড কে নয়। একবার ফোকাস সিকিউর হয়ে গেলে, গ্রুপ-এরিয়া এএফ মোডেও সাবজেক্ট কে ট্র্যাক করবে (যদি ৫ ফোকাস পয়েন্ট এর মধ্যে একটিও সাবজেক্টের কাছাকাছি থাকে)। যদি ছবির সাবজেক্ট  দ্রুত মুভমেন্ট করে এবং আপনি  আপনার ক্যামেরাটিকে সাবজেক্টের মুভমেন্টের দিকে ঠিকঠাক প্যান করতে না পারেন তাহলে কিন্তু ফোকাস হারিয়ে যাবে।  একই ঘটনা ডায়নামিক 9 এএফ মোডেও ঘটবে। ট্র্যাকিং এর ক্ষেত্রে, গ্রুপ-এরিয়া এএফ বেশ ফাস্ট কিন্তু এটি ডায়নামিক 9 এএফ এর মতো ফাস্ট কিনা তা বলা কঠিন – কিছু কিছু পরিস্থিতিতে, ডায়নামিক 9 এএফ কিছুটা ফাস্ট ট্র্যাকিং করতে পারে বলেই মনে হয়।

আপনি যখন এএফ-এস মোডে গ্রুপ এরিয়া এএফ ব্যবহার করবেন, ক্যামেরা তখন মুখ ( ফেস ডিটেকশন) বা চোখ (আই ডিটেকশন) এর উপর ফোকাস করার চেষ্টা করবে। ধরুন আপনি যদি গাছের ডাল ও পাতার মধ্যে দিয়ে কোনো মানুষের ছবি তোলেন তবে ক্যামেরা গাছের পাতার পরিবর্তে ওই মানুষটার মুখ বা চোখের উপর ফোকাস করার চেষ্টা করবে। মনে রাখতে হবে এই ফেস বা আই ডিটেকশন শুধুমাত্র এএফ–এস মোডে (নিকন ক্যামেরায়) অ্যাক্টিভ থাকে। তাই নিকন ক্যামেরা দিয়ে যদি ফাস্ট অ্যাকশন স্পোর্টস ফটোগ্রাফি করেন এবং চাইছেন যে কোনো নির্দিষ্ট সাবজেক্ট ( এখানে খেলোয়াড় ) এর মুখের উপর ফোকাস লক করে তাকেই শুধু ট্র্যাক করবেন তাহলে কিন্তু আপনাকে ডায়নামিক এএফ–এরিয়া মোড ব্যবহার করতে হবে। (ছবি ১৬)

অন্যান্য এরিয়া মোড

কিছু নতুন নিকন ক্যামেরায় ভিডিও রেকর্ডিংয়ে ব্যবহারের জন্য “ফেস-প্রায়োরিটি এএফ”, “ওয়াইড-এরিয়া এএফ”, “নরমাল-এরিয়া এএফ” এবং “সাবজেক্ট-ট্র্যাকিং এএফ” এর মতো অতিরিক্ত এএফ-এরিয়া মোড রয়েছে। আমি এগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায়  যাচ্ছি না, কারণ তারা নির্দিষ্ট ক্যামেরা মডেলের জন্যই নির্দিষ্ট এবং সম্ভবত ভবিষ্যতে পরিবর্তিতও হবে। ক্যানন ক্যামেরাতে “স্পট এএফ” এর মতো কিছু এএফ-এরিয়া মোডও রয়েছে, যেখানে আপনি ফোকাস পয়েন্টের মধ্যেই আপনার ফোকাসটি আরো সূক্ষ্ম করতে পারেন।

একইভাবে বিভিন্ন এএফ এরিয়া মোডগুলি এএফ-সি অটোফোকাস মোডেও পাওয়া যায় এবং এই সমস্ত এএফ এরিয়া মোড উপযুক্ত অটোফোকাস মোডের সাথে একসাথেই আপনার কাঙ্খিত ফল দিতে পরে। ছবি তোলার উদ্দেশ্যে, কেউ যদি এএফ এরিয়া মোড এবং এএফ মোডের জটিলতার গভীরে যেতে না চান তবে নীচের সহজ এবং সহজ ফর্মুলেশনটি পড়তে পারেন (এ-এফ মোড আর এ-এফ এরিয়া মোড দুটি কিন্তু মোটেই এক জিনিস নয়!)

আগামী পর্বে অটোফোকাস নিয়ে বাকি আলোচনা করবো। এই পর্বের এখানেই ইতি।

—————————– * —————————– * —————————-

অটো ফোকাস ও অটোফোকাসএরিয়া মোড : পর্ব-২

ডাঃ মানস চক্রবর্তী

ইএফআইপি, ইএফআইএপি

 

বিভিন্ন  পরিস্থিতিতে  অটোফোকাস ও তার উদাহরণ

এখনও পর্যন্ত আপনি প্রতিটি ফোকাস মোড এবং এএফ-এরিয়া মোডসম্পর্কে প্রচুর টেকনিক্যাল ইনফরমেশন পেয়েছেন। কিন্তু দিনের শেষে তুলবো তো ছবি। তাই উপরের আলোচনাকে ফটোগ্রাফীর দৃষ্টিকোণ থেকে   বুঝতে এবং উপলব্ধি করার জন্য বিভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতি এবং উদাহরণ নিয়ে আলোচনায় আসি। আমি নিজে যেহেতু নিকন ক্যামেরা ব্যাবহার করি তাই আলোচনায় নিকন এর সেটিংস বলেছি। অন্য ব্র্যান্ডের ক্যামেরাতেও কিন্তু এই সেটিংস পাওয়া যাবে, হয়তো নামের কিছু তারতম্য হবে।

আউটডোরে খেলাধুলার ছবি  (ছবি ১৭)

ছবি ১৭ ৩-ডি ট্র্যাকিং,ছবি সৌজন্য সায়ন্তন চক্রবর্তী

ফুটবলের মতো আউটডোর স্পোর্টসের ছবি তোলার সময় আপনি কোন অটোফোকাস মোড এবং এএফ-এরিয়া মোড সিলেক্ট করবেন? আসুন প্রথমে সঠিক অটোফোকাস মোড সিলেক্ট করে শুরু করা যাক। স্পষ্টতই, সিঙ্গল এএফ / এএফ-এস মোড  ব্যবহারে  কাজ হবে না, কারণ  আপনার ক্যামেরার শাটার হাফ প্রেস বা ব্যাক বাটন ফোকাস অথবা নির্দিষ্ট  এএফ- অন বাটন প্রেস করার সাথে সাথে আপনার ক্যামেরাকেও ক্রমাগত রিফোকাস  করতে হবে। তাই আমাদের অবশ্যই এএফ-সি বা এএফ-এ মোড ব্যবহার করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে  আমরা জানি যে আমাদের সাবজেক্ট ( এখানে ফুটবল খেলোয়াড়রা) সারাক্ষণই মাঠের মধ্যে খেলার মুভমেন্টে আছে  তাই আমরা শুধুমাত্র এএফ-সি মোডটিকেই বেছে নেব। এ-এফ এরিয়া মোড  কি হবে ?

এএফ-এরিয়া মোডের মধ্যে, সেরা অপশন হলো ৩-ডি ট্র্যাকিং। এই মোডে, আপনার ক্যামেরা আপনার আগ্রহের খেলোয়াড়কে ফোকাস এবং ট্র্যাক করতে থাকবে এবং আপনি শুধু শটের কম্পোজিশন করবেন। সাধারণত এই ৩- ট্র্যাকিং খুব ভালো রেজাল্ট দেয় কিন্তু  যদি এটি আপনার সাবজেক্টকে সঠিকভাবে ট্র্যাক করতে না পারে (বা আপনি হয়তো বিশেষ কোনো খেলোয়াড়কেই  ট্র্যাক ও ফোকাস করতে চাইছেন ) তাহলে  তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যার ফোকাস পয়েন্টসহ ডায়নামিক এএফ-এরিয়া মোডে স্যুইচ করুন, বিশেষত যদি আপনি মাঠের সাইড লাইনের খুব কাছাকাছি থাকেন। গ্রুপ-এরিয়া এএফ দুর্দান্ত কাজ করবে যদি আপনি কেবল ক্যামেরার সবথেকে কাছের খেলোয়াড়কে ট্র্যাক করতে চান। 

যে সেটিংস ব্যবহার করলে সবথেকে ভালো ফল পাওয়া যাবে তার একটি সারসংক্ষেপ এখানে দিলাম :

১.               অটোফোকাস মোড: AF-C

২.               এএফ-এরিয়া মোড: 3 ডি-ট্র্যাকিং, ডায়নামিক এএফ-এরিয়া বা গ্রুপ-এরিয়া এএফ

৩.              কাস্টম সেটিংস->ডায়নামিক এএফ অঞ্চল: 21-পয়েন্ট বা 51-পয়েন্ট

৪.               কাস্টম সেটিংস->এএফ-সি প্রায়োরিটি সিলেকশন: রিলিজ + ফোকাস

 

 

আউটডোরে মানুষের ছবি (ছবি ১৮)

ছবি ১৮

দিনের আলোতে আপনার জন্য পোজ দেওয়া আউটডোর পোর্ট্রেট নেওয়ার সময়, যে কোনও অটোফোকাস মোডই খুব ভাল  রেজাল্ট দেয়।  আপনি যদি এএফ-এস মোডে শ্যুট করেন তবে আপনি শাটারটি অর্ধেক চাপলে ক্যামেরাটি শুধুমাত্র একবার ফোকাস করবে, তাই   নিশ্চিত হয়ে নিন যে  ছবি তোলার ঠিক আগে ফোকাস সিকিউর করার পর আপনি বা আপনার সাবজেক্ট যেন নড়াচড়া না করে। এএফ-এস মোডের ডিফল্ট সেটিংস অনুযায়ী, আপনার ক্যামেরা আপনাকে শাটার রিলিজ করতেই দেবে না যতক্ষণ না সাবজেক্ট এর উপর ফোকাস সঠিকভাবে সিকিউরড হচ্ছে। আপনি যদি এএফ-সি মোডে শুটিং করেন তবে ছবি তোলার আগে ভাল করে ফোকাস সিকিউর করার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। এএফ-এ মোডও পোর্ট্রেটগুলির জন্য দুর্দান্ত রেজাল্ট দিতে পারে। যখন এএফ-এরিয়া মোডের কথা আসে, তখন আমি সিঙ্গেল-পয়েন্ট এএফ-এরিয়া মোডের পক্ষে কারণ  আপনার সাবজেক্ট এক্ষেত্রে স্থির। তাহলে ক্যামেরার সম্পূর্ন অটোফোকাস সেটিংস হবে –

১.অটোফোকাস মোড: এএফ-এস, এএফ-সি বা এএফ-এ

২.এএফ-এরিয়া মোড: সিঙ্গেল-পয়েন্ট এএফ-এরিয়া

৩.কাস্টম সেটিংস->এএফ-এস প্রায়োরিটি সিলেকশন: ফোকাস

৪.কাস্টম সেটিংস->এএফ-সি প্রায়োরিটি সিলেকশন: রিলিজ + ফোকাস

ছবি ১৯ আউটডোর পোরট্রেট

আমরা সবাই জানি যে পোর্ট্রেট শুটের সময় সাবজেক্টের চোখে, বিশেষত যে চোখটি ক্যামেরার থেকে কম দূরত্বের, ফোকাস করলেই ছবি সবথেকে দেখতে ভালো লাগে। আপনি যদি একটি আধুনিক ডিএসএলআর বা  মিররলেস ক্যামেরা ব্যবহার করেন যাতে ফেস বা আই-ডিটেকশন অটোফোকাস মোড আছে তবে সেগুলি ব্যবহার করতে ভুলবেন না! নিকন জেড মিররলেস ক্যামেরায় সেটিংস নিম্নলিখিত হবে: (ছবি ১৯)

১.অটোফোকাস মোড: এএফ-সি

২.এএফ-এরিয়া মোড: অটো-এরিয়া এএফ

৩.কাস্টম সেটিংস->অটো-এরিয়া এএফ ফেস / আই ডিটেকশন: মুখ এবং চোখের ডিটেকশন

৪.কাস্টম সেটিংস->এএফ-সি প্রায়োরিটি সিলেকশন:রিলিজ

ইনডোর পোর্ট্রেট  শুট (ছবি ২০)

ছবি ২০, ইন্ডোর পোরট্রেট

কম আলোতে ইনডোর পোর্ট্রেট শুট কখনো বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।  লো লাইটে ছবি তুলতে হলে এএফ-এস মোড ব্যবহার করুন যাতে এএফ-অ্যাসিস্ট বিমটি প্রয়োজনে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। আপনি যদি স্পিডলাইট ব্যবহার করেন তবে এএফ-এস মোড  ফোকাস করার জন্য এএফ-অ্যাসিস্ট  বিম ( লাল বা সবুজ ) ব্যবহার করবে কিন্তু এই অ্যাসিস্ট বিমের সুবিধে কিন্তু এএফ-সি মোডে পাবেন না। যদিও এএফ-এ মোডটি এই ধরণের পরিস্থিতিতে ভালই কাজ করে তবুও  এএফ-এস মোড ব্যবহার করাটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এএফ-এরিয়া মোড এর  ক্ষেত্রে,  সিঙ্গল-পয়েন্ট এএফ-এরিয়া মোড বেছে নিন এবং কম আলোর পরিস্থিতিতে শুটিং করার সময় আরও ভালো ফোকাসের জন্য সেন্টার অটোফোকাস পয়েন্ট সিলেকশন করুন। তাহলে সংক্ষেপে ক্যামেরা সেটিংস দাড়ালো :-

১.অটোফোকাস মোড: এএফ-এস

২.এএফ-এরিয়া মোড: সিঙ্গেল-পয়েন্ট এএফ-এরিয়া

৩.কাস্টম সেটিংস->এএফ-এস প্রায়োরিটি সিলেকশন: ফোকাস

৪.কাস্টম সেটিংস->লো-লাইট এএফ: অন

 

আকাশে উড়ন্ত পাখির ছবি (ছবি ২১)

ছবি ২১, উড়ন্ত পাখি, ছবি সৌজন্য অশোক সামাদ্দার

পাখির ছবি তোলা সবসময়ই কঠিন কারণ তাদের আচরণের পূর্বাভাস দেওয়া কার্যত অসম্ভব এবং পাখিরা প্রায়শই খুব দ্রুত নড়াচড়া করে। তাই পাখিকে ঠিকঠাক ফোকাসে রাখতে  কন্টিনিউয়াস এএফ / এএফ-সি মোড এবং ৯ থেকে ২১ এর মধ্যে ফোকাস পয়েন্টসহ গ্রুপ-এরিয়া এএফ মোড বা ডায়নামিক এএফ-এরিয়া মোডই হবে তুরুপের তাস। (আপনি ফোকাস পয়েন্টগুলি ২১ এও রাখতে পারেন তবে ৯ সাধারণত আরো ফাস্ট ফোকাস করে)। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে পাখির ছবি তোলার ক্ষেত্রে ৫১ টি ফোকাস পয়েন্ট ব্যবহার  এবং ৩ ডি-ট্র্যাকিং মোডে শুট করতে গেলে অটোফোকাস কিন্তু কম ফোকাস পয়েন্ট ব্যবহারের চেয়ে স্লো এবং কম নির্ভরযোগ্য হতে পারে। পাখির ছবি তোলার সময় অধিকাংশ ফটোগ্রাফার ৯৯% ক্ষেত্রে সেন্টার ফোকাস পয়েন্ট ব্যবহার করে থাকেন এবং পাখিরা যখন কোনও গাছের ডালে বা অন্য কিছুতে বসে থাকে তখনই কেবল ফোকাস পয়েন্ট পরিবর্তন করেন। সেন্টার ফোকাস পয়েন্ট এর সাথে গ্রুপ-এরিয়া-এএফ ফোকাসের দিক থেকে আপনাকে হতাশ করবে না- এটা কিন্তু জোর দিয়েই বলা যায়।

আমরা আরও একবার উপরের আলোচনাকে সংক্ষিপ্ত করে ক্যামেরার সেটিংস দেখে নি:-

১.অটোফোকাস মোড: AF-C

২.এএফ-এরিয়া মোড: ডায়নামিক এএফ-এরিয়া বা গ্রুপ-এরিয়া এএফ

৩.কাস্টম সেটিংস->ডায়নামিক এএফ এরিয়া: ৯ বা ২১-পয়েন্ট

৪.কাস্টম সেটিংস->এএফ-সি প্রায়োরিটি সিলেকশন: রিলিজ + ফোকাস

 

 ল্যান্ডস্কেপ এবং আর্কিটেকচারের ছবি (ছবি ২২)

ছবি ২২, ল্যান্ডস্কেপ এবং আর্কিটেকচার

ল্যান্ডস্কেপ এবং আর্কিটেকচারের জন্য, যে কোনো অটোফোকাস মোড এবং অটোফোকাস এরিয়া ফোকাস মোডই ভাল রেজাল্ট দেয়, তবে অনেকেই এএফ-এস এবং পিনপয়েন্ট মোডে ছবি তুলতে পছন্দ করেন কারণ এই ক্ষেত্রে ট্র্যাক করার মতো কিছু ছবির ফ্রেমে থাকে না। কম আলোর পরিস্থিতিতে, আপনি কোনওভাবেই আপনার ক্যামেরায় এএফ-অ্যাসিস্ট ফাংশনটি ব্যবহার করতে পারবেন না (দূরত্বের সমস্যার কারণে)। সঠিক ফোকাসের জন্য সম্ভব হলে লাইভ ভিউ ব্যবহার করুন (প্রথমে ১00% জুম ইন করুন) এবং  ফ্রেমের কোনও উজ্জ্বল বস্তুতে ফোকাস করে নিন। লো লাইটের ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফীর জন্য আর একটি নির্ভযোগ্য বিকল্প হলো অটোফোকাস বন্ধ করে পুরোপুরি ম্যানুয়াল ফোকাস করা। ল্যান্ডস্কেপ এবং আর্কিটেকচারের ছবি তোলার সময়, আপনাকে হাইপারফোকাল ডিসটেন্স এর ধারণা সহ কোথায় ঠিক ফোকাস করবেন সে সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করে ফোকাস করতে হবে।  একটি নির্দিষ্ট অংশে সঠিকভাবে ফোকাস করার জন্য পিনপয়েন্ট এএফ বা সিঙ্গেল-পয়েন্ট এএফ-এরিয়া মোড ব্যবহার করতে পারেন।

তাহলে দেখে নি ক্যামেরার অটোফোকাস সেটিংস কি হবে:-

১.অটোফোকাস মোড: এএফ–এস

২.এএফ-এরিয়া মোড: পিনপয়েন্ট এএফ/সিঙ্গল-পয়েন্ট এএফ-এরিয়া মোড

৩.কাস্টম সেটিংস->এএফ-এস প্রায়োরিটি সিলেকশন: ফোকাস

 

বড় প্রাণী / বন্যপ্রাণীর ছবি   (ছবি  ২৩)   

ছবি ২৩, ওয়াইল্ড লাইফ

বড়সড় প্রাণী বা বন্য প্রাণীর ছবি তোলার সময় কন্টিনিউয়াস-এএফ / এএফ-সি মোডে আপনার ক্যামেরার অটোফোকাস মোড সেট করুন এবং তার সাথে এএফ এরিয়া মোড হিসেবে বেছে নিন ডায়নামিক এএফ-এরিয়া বা ৩- ডি-ট্র্যাকিং মোড ; নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, রেজাল্ট ভালো পাবেনই। প্রাণীরা সাধারণত পাখিদের মতো দ্রুত গতির হয় না (যদিও কিছু বন্য প্রাণী শিকার ধরার সময় বা শিকার না হবার জন্য মাঝে মাঝে এমন জোরে দৌড়বে যে উপরের কথাটার কোনোই মানে হবে না), তাই আপনি যদি ফাস্ট অ্যাকশনের ছবি না করেন তবে  সর্বোচ্চ সংখ্যক ফোকাস পয়েন্টসহ ডায়নামিক এএফ-এরিয়া সিলেক্ট করুন বা ৩-ডি-ট্র্যাকিং ব্যবহার করুন। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে আপনি যখন ওয়াইল্ড লাইফ এর ছবি তুলবেন তখন আগে থেকে সেই বনাঞ্চলের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করুন। জেনে নিন যে কোন ধরনের বন্য প্রাণীর ছবি পাবার সম্ভাবনা সেখানে বেশি এবং তাদের জীবনযাত্রার ধরন কেমন। তারা কি অপেক্ষাকৃত ধীর গতির প্রাণী ? নাকি অত্যন্ত ক্ষিপ্র ? যদি অপেক্ষাকৃত ধীর গতির প্রাণী হয় তাহলে এক্ষুনি যেমন বলা হলো, তাই দিয়েই হবে আর যদি খুব ফাস্ট মুভিং হয় তখন ওই পাখির ছবি তোলার ধারণা কাজে লাগাবেন।

উপরের আলোচনাকে ক্যামেরার সেটিংসে দেখলে যেটা দাড়াবে:-

১.অটোফোকাস মোড: এএফ-সি

২.এএফ-এরিয়া মোড: ডায়নামিক এএফ-এরিয়া / ৩-ডি-ট্র্যাকিং

৩.কাস্টম সেটিংস->ডায়নামিক এএফ এরিয়া: সর্বোচ্চ সংখ্যক এএফ পয়েন্ট বা ৩-ডি ট্র্যাকিং

৪.কাস্টম সেটিংস->এএফ-সি প্রায়োরিটি সিলেকশন: রিলিজ + ফোকাস

 

বেশ কিছুটা দুর থেকে একদল প্রাণী বা মানুষের  ছবি (ছবি ২৪)

ছবি ২৪, গ্রুপ অফ পিপল

আপনি যদি টেলিফটো লেন্স ব্যবহার করেন তবে বড় অ্যাপারচার ব্যবহার করার সময় আপনাকে ক্যামেরা-টু-সাবজেক্ট দূরত্ব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। আপনি যদি গ্রুপের খুব কাছাকাছি দাঁড়ান এবং এফ / 1.4-এফ / 2.8 এর মতো বড় অ্যাপারচার ব্যবহার করেন তবে কেবল মাত্র এক বা দু’জনই শুধু ফোকাসে থাকবে, অন্যরা আউট অফ ফোকাস হয়ে ব্লার হয়ে যাবে (যদি না সবাই একই ফোকাল প্লেনে থাকে)  এমন ছবি তোলার সময় যদি বেশি ডেপ্থ অফ ফিল্ড ছবিতে জরুরি হয় তাহলে এফ নাম্বার বাড়িয়ে ( অন্তত এফ৮ বা তার থেকে বেশি ) অথবা গ্রুপ থেকে পিছনে গিয়ে / দূরে গিয়ে ছবি তোলা, যাতে ডেপ্থ অফ ফিল্ড বাড়ে অথবা এই দুই পদ্ধতিকেই কাজে লাগাতে পারেন। আপনি যদি ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বা ঝাপসা করতে চান তাহলে ছোটো এফ নাম্বারে ( অর্থাৎ বড় আপ্যার্চারে) ছবি তুলুন এবং সবাইকে আপনার ক্যামেরার সমান্তরালে  একই ফোকাল প্লেনে রাখুন। আপনি যদি দিনের আলোতে শুটিং করেন তাহলে যে কোনও এএফ মোড ভালোভাবেই ফোকাস করতে পারবে তবে  ফোকাস করার জন্য সিঙ্গেল-পয়েন্ট এএফ-এরিয়া মোড বেছে নিলে আপনি অনেক নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন।

এই ক্ষেত্রে ক্যামেরার সেটিংস হবে :-

১.অটোফোকাস মোড: এএফ-এস, এএফ-সি বা এএফ-এ

২.এএফ-এরিয়া মোড: সিঙ্গেল-পয়েন্ট এএফ-এরিয়া

৩.কাস্টম সেটিংস->এএফ-এস প্রায়োরিটি সিলেকশন: ফোকাস

৪.কাস্টম সেটিংস->এএফ-সি প্রায়োরিটি সিলেকশন: রিলিজ + ফোকাস

একটি বিষয় আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আপনি যখন এএফ-এস মোডে শ্যুট করবেন, তখন ক্যামেরার কাস্টম সেটিংটি ফোকাসে রাখুন, যার অর্থ যতক্ষণ না সাবজেক্ট ফোকাসে আসছে ততক্ষণ শাটার রিলিজ হবে না। এটির জন্য আপনি  নিখুঁত ফোকাসে ছবি পাবেন। তবে আপনি যখন এএফ-সি মোডে শুটিং করবেন, তখন এটি ফোকাস + রিলিজ করুন। এর অর্থ হলো আপনি যখন মুভিং সাবজেক্টের ছবি তুলবেন, তখন আপনার শাটার ফোকাস করে তারপর পড়বে। তাহলে আগেরটা থেকে এটার তফাৎ কি হলো ? তফাৎ এটাই যে এএফ-সি মোডে আপনি সাবজেক্ট এবং মুভমেন্ট — দুটোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। যেহেতু এই এএফ-সি মোড কোনো দৃশ্যের অ্যাকশনকেও ক্যাপচার করে তাই ফোকাসে ন আসা পর্যন্ত শাটার রিলিজ হবে না এই শর্ত না রেখেই ফোকাস ও রিলিজ পরপর করবে ( তাতে দু একটা ফ্রেমে ফোকাসের সমস্যা থাকলেও থাকতে পারে )।

 

কম আলোতে অটোফোকাস আরো উন্নত করার টিপস

আমরা ছবি তোলার অভিজ্ঞতায় দেখেছি  যে জোরালো আলো, রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে ফোকাস করা  বেশ সহজ এবং আমাদের ক্যামেরাতে  বেশ ভালভাবে সেটা হয়েও যায়। কিন্তু অটোফোকাসের ঝামেলা শুরু হয় কম আলোর পরিবেশে, বিশেষ করে ইনডোর শুটিং করার সময় । কম আলোতে সাবজেক্টকে সঠিক ফোকাস করে শুট করতে  যদি সমস্যা হয় তবে নিচের আলোচিত বিষয়গুলো মাথায় রাখুন, কাজে দেবে।

সেন্টার ফোকাস পয়েন্ট ব্যবহার করুন

 আপনার ক্যামেরাতে ৯ বা ৫১ বা তার থেকেও বেশি ফোকাস পয়েন্ট থাকতেই পারে কিন্তু আপনি লো লাইট কন্ডিশনে ছবি তোলার সময় ফ্রেমের কর্নারে থাকা ফোকাস পয়েন্টগুলি ব্যবহার  না করে সেন্টার ফোকাস পয়েন্ট ব্যবহার করবেন কারণ সব ক্যামেরা কোম্পানিই ফ্রেমের সেন্টারে ভার্টিকাল বা হরাইজন্টাল ফোকাস পয়েন্ট না দিয়ে  অনেক বেশি অটোফোকাস সেনসিটিভ, ক্রস টাইপ অটোফোকাস পয়েন্ট দেয়। এই ক্রস টাইপ ফোকাস পয়েন্ট গুলো সিঙ্গল টাইপ এএফ পয়েন্টের থেকে অনেক বেশি আলো সেনসিটিভ।  অবধারিত ভাবেই একটা প্রশ্ন উঠে আসে যে ফ্রেমের সেন্টারে অটোফোকাস করে আমি দৃষ্টিনন্দন কম্পোজিশন করবো কি ভাবে ? ছবি তোলার সময় আমরা তো সাবজেক্টকে প্লেস করার জন্য গোল্ডেন পয়েন্ট খুঁজতে থাকি হন্যে হয়ে। এবার আপনার ক্যামেরায় যদি সেই মান্ধাতা আমলের শাটার হাফ প্রেস করে ফোকাস করা ছাড়াও  ব্যাক-বাটন অটোফোকাসিং ব্যবহার করা যায়, তাহলে অবশ্যই সেটাকেই আপনার “ফোকাস হ্যাবিট” করে ফেলুন। ব্যাক বাটন ফোকাসিংয়ে আপনি সেন্টারে থাকা ক্রস টাইপ এএফ পয়েন্টের সুবিধে নিয়ে ফোকাস করুন আর তারপরই ক্যামেরার পিছনে বা অন্যকোথাও ব্যাক বাটন ফোকাস পয়েন্ট চেপে খুব সহজেই ছবির কম্পোজিশন কে রিকম্পোজ করে তুলতে থাকুন ছবি। এন্ট্রি-লেভেল সহ বেশিরভাগ ডিজিটাল/ মিরোরলেস ক্যামেরায় ইদানিং  ব্যাক বাটন ফোকাস এর মাধ্যমে  অটোফোকাস করার জন্য “এএফ-অন” নামে একটি ডেডিকেটেড বাটন থাকে অথবা  সহজেই ক্যামেরা মেনুতে গিয়ে ব্যাক বাটন অটো ফোকাস কে অ্যাক্টিভ করতে পারবেন [“কাস্টম সেটিংস” – > “এএফ- অ্যাক্টিভেশন” – >  “এএফ-অন ওনলি”( নিকন )]। তবে আপনি যদি শ্যালো ডেপ্থ অফ ফিল্ড নিয়ে ছবি তোলেন তাহলে ফোকাস করার পরে আপনার ফ্রেম রিকম্পোজ করার সময় আপনাকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে যাতে আপনার ছবির মূল সাবজেক্ট যেন ফোকাল প্লেনের বাইরে বেরিয়ে না যায়।  সেটা হলে কিন্তু মূল সাবজেক্ট আউট অফ ফোকাস হয়ে যেতে পারে।

“এএফ-অ্যাসিস্ট”  ব্যবহার করুন

কম আলোতে সাবজেক্টকে সঠিক ফোকাস করতে  ক্যামেরার এই ফিচারটি ব্যবহার করুন। এই ফিচারটি কে অ্যাক্টিভ  করতে দেখে নিন যে আপনার ক্যামেরার মেনুতে “AF-Assist” অন আছে কিনা এবং AF-S মোড সিলেক্ট করা আছে কিনা। আপনার যদি নিকন জেড মিররলেস ক্যামেরা থাকে তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে “লো-লাইট এএফ” অপশন অন করা হয়েছে কিনা। খুবই কম আলোর পরিবেশে স্পিডলাইট ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

কনট্রাস্ট এবং এজগুলি সন্ধান করুন

সিম্পল, এক-রঙা সাবজেক্টের পরিবর্তে ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে কনট্রাস্ট আছে এমন কিছুর উপর ফোকাস করুন, দেখবেন অটো ফোকাস অনেক ভালো এবং তাড়াতাড়ি হচ্ছে। 

ছবিতে বাড়তি আলো দিন

 শুনতে বেশ অদ্ভুত শোনাচ্ছে না ? বাস্তব কিন্তু এটাই।  আপনার ক্যামেরার যদি ফোকাস করতে সমস্যা হয় তবে আরও বাড়তি লাইট যুক্ত করা বা ঘরে আরও লাইট চালু করার চেয়ে সহজ আর কী হতে পারে?

নজর রাখুন  শাটার স্পীড  এর দিকে

অনেকসময়ই শাটার স্পীড  কম থাকায় যে ক্যামেরা শেক হয় সেটাই ছবি দেখার সময় মনে যেন সাবজেক্ট সঠিক ফোকাসে নেই। এটি খারাপ ফোকাসের মতো দেখালেও আসলে কিন্তু ক্যামেরা শেক যার ফলে ছবি দেখে সফ্ট ফোকাসের মতো লাগে।  ক্যামেরা হাতে নিয়ে ছবি তোলার সময় ইন-বডি ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন সহ  ক্যামেরা বা অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন সহ একটি লেন্স ব্যবহার করলে অবশ্যই অবশ্যই কিছুটা সুরাহা পাবেন তবুও, আপনার শাটার স্পীড যেন খুব কম না হয়ে যায়। হ্যান্ড হেল্ড ছবি তোলার ক্ষেত্রে একটা সহজ হিসেব মাথায় রাখুন যে লেন্সের ফোকাল লেংথ এর যে সংখ্যা শাটার স্পীড যেন তার থেকে কম না হয়। অনেকে অনেক কম শাটার স্পীড রেখেও ক্যামেরা শেক না করে ছবি তুলতে পারেন কিন্তু সেটাকে তার ব্যাক্তিগত মুন্সিয়ানা বলেই ধরে নিতে হবে।

লাইভ ভিউ কনট্রাস্ট ডিটেকশন অটোফোকাস ব্যবহার করুন

 কনট্রাস্ট ডিটেকশন এএফ ব্যবহার করে লাইভ ভিউ মোডে ফোকাস করার চেষ্টা করুন। এটি ফেজ ডিটেকশন এএফএর চেয়ে স্লো কিন্তু  কম আলোর পরিস্থিতিতে অবশ্যই বেশি নির্ভরযোগ্য। লাইভ ভিউ মোড ব্যবহার করার সময়  ট্রাইপড এবং একান্ত দরকারে ম্যানুয়াল ফোকাস আরও ভালো রেজাল্ট দেয়।  লাইভ ভিউ মোডে ম্যানুয়ালি ফোকাস করাও অনেক সহজ, যেহেতু আপনি অপটিক্যাল ভিউফাইন্ডারের চেয়ে বড় এলসিডিতে ছবির ফ্রেম কে দেখছেন। লাইভ ভিউ মোডে ক্যানন ক্যামেরাতে আপনি ফোকাস করার সময়ই ১০০% জুম করে দেখে নিতে পারেন যে সাবজেক্ট সঠিক ফোকাসে আছে কিনা। বেশিরভাগ মিররলেস ক্যামেরাই  কম আলোতে নিজে থেকেই কনট্রাস্ট ডিটেকশন এএফ-এ স্যুইচ করে।

ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করুন

 যদি আপনার ক্যামেরায় ইন-বিল্ট এএফ–অ্যাসিস্ট ল্যাম্প না থাকে তবে একটি এক্সটার্নাল ফ্ল্যাশ বা যেকোনো লাইট ব্যবহার করুন, দেখবেন কম আলোর ফোকাসের ঝামেলা অনেকটাই এড়াতে পারবেন। সঙ্গী ফটোগ্রাফারকে বলুন যে সাবজেক্টের উপর আলোটা ফেলতে। ওই বাড়তি আলোতে ফোকাস সিকিউর করে নিয়ে অটোফোকাস মোড থেকে ম্যানুয়াল ফোকাস মোডে সুইচ করুন। যদি সাবজেক্ট সরে না যায় তাহলে ক্যামেরা কিন্তু আগের ফোকাস ই ধরে রাখবে এবং দেখবেন অনেক কম আলোতেও সুন্দর ফোকাস হয়েছে

ম্যানুয়াল ফোকাস ব্যবহার করুন

যদিও আমাদের আলোচনার বিষয় অটোফোকাস এর তত্ত্ব তালাস তবে কম আলোতে ফোকাস করার সেরা বাজি কিন্তু ম্যানুয়াল ফোকাস। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অটোফোকাস আপনার ছবি তোলার ২৪ ঘন্টার সঙ্গী হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল ফোকাস কিন্তু আপনার পরিত্রাতা এবং অবাক হবার কোনোই কারণ নেই যখন আপনি দেখবেন অনেক সময় লো লাইট সিচুয়েশনে অটোফোকাস এর থেকে ম্যানুয়াল ফোকাস অনেক তাড়াতাড়ি কাজ করছে। অটোফোকাস এর খুঁটিনাটি খুব ভালো করে জেনে নিয়েও ম্যানুয়াল ফোকাস করার অভ্যেসটা বজায় রাখুন, কাজে দেবে।

শার্প ফোকাস করে আপনার তোলা ছবিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবার জন্য আপনারই ক্যামেরাতে যে উন্নত মানের অটোফোকাস সিস্টেম ক্যামেরা কোম্পানি গুলো দিয়েছে ( এবং ক্যামেরা কেনার সময় আপনি তার জন্য দামও দিয়েছেন ) সেই সিস্টেম এবং এই অটোফোকাস সিস্টেমের হরিহর আত্মা অটোফোকাস এরিয়া মোডের উপর ধারণা পরিষ্কার থাকলেই দেখবেন ছবির সঠিক ফোকাস করছে আপনার ক্যামেরা আর আপনি সম্পূর্ন মনোনিবেশ করতে পারছেন ফটোগ্রাফীর কম্পোজিশন, এক্সপ্রেশন, আলো – ছায়া প্রভৃতি নানান শৈল্পিক আঙ্গিক নিয়ে। ক্যামেরার এই টেকনিক্যাল দিকগুলো ভালো ভাবে বুঝে নিন এই জন্যই যে ছবি তোলার সময় এই টেকনিক্যাল কচ্কচিতে মন দিতে না হয়, ফটোগ্রাফীর বিজ্ঞানে নয় — আপনি যাতে আপনার সবটুকু দিতে পারেন ফটোগ্রাফীর শিল্প আঙিনায়।